নিজস্ব প্রতিবেদক
সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যকার বাগযুদ্ধ আরো তীব্রতর হয়েছে। বলা যায় দুই আঞ্চলিক শক্তির মধ্যকার গভীর বিভেদকে উন্মোচন করে দিয়েছে এই বাগযুদ্ধ।
গত বছর আন্তর্জাতিক জলসীমায় গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে তুরস্ক।
এর জবাবে নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেন। তিনি এরদোয়ানের বিরুদ্ধে নিজ দেশের কুর্দি নাগরিকদের গণহত্যার অভিযোগ করেন ।
এছাড়াও দুর্নীতি ও আইনি লড়াই একটি অত্যন্ত জটিল পর্যায়ে রয়েছে নেতানিয়াহু। যেখানে দেশটির প্রসিকিউটরদের দীর্ঘ কারাদণ্ডের দাবিকে নেতানিয়াহু তার বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক প্রচার বা উইচ হান্ট হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন। আর এ পরিস্থিতিতে বলা যায় তুরস্কের বিরোধীতা করা একটি গুরুতর পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছিলেন নেতানিয়াহু।
এদিকে নির্বাচনের বছর হিসেবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর নিজের ভাবমূর্তি রক্ষা করার প্রয়োজন ছিল। কেননা ইতোমধ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা যুদ্ধবিরতির কারণে দেশে তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছিল। রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়া এবং কিছু ভোটারের মন জয় করার জন্য এরদোয়ানকে তিরস্কার করা একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ছিল নেতানিয়াহুর।
একই সময়ে, ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও এই বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। নেতানিয়াহুর মতো বেনেটও তুরস্কের বিরুদ্ধে একের পর এক উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন।
ইতোমধ্যে, বেনেট তুরস্ককে নতুন ইরান হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এর আগে আঙ্কারার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন যে ইরানের পর আমরা চুপ করে থাকব না।’
এটি এখন আর নিছক কথার লড়াই নয়, বরং চলমান এই বাগযুদ্ধ দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের পথ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে।
এটা মনে রাখা দরকার যে, গাজায় ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ , সিরিয়ায় নতুন সরকারের আগমন এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা—যার মধ্যে গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে ইসরাইলের গভীরতর সম্পর্কও অন্তর্ভুক্ত—এসব নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিমধ্যেই তীব্র মতবিরোধ বিদ্যমান ।
তাহলে সত্যিই যদি তুরস্ক ও ইসরাইল কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো চরম পদক্ষেপ নিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তবে কী ঘটবে?